Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts
Showing posts with label রাজনীতি. Show all posts

Saturday, 22 March 2025

রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের এখতিয়ার’ সেনাবাহিনীর নেই: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের এখতিয়ার’ সেনাবাহিনীর নেই: নাহিদ ইসলাম


রাজনীতি নিয়ে কোনো ‘প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার’ সেনাবাহিনী কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার রাতে দলের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, "নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার, জনগণ ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

“সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এ ধরনের চর্চা যেন বাংলাদেশে না হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবেই হবে এবং সামনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আমরা উত্তরণ করতে চাচ্ছি।"

শুক্রবার রাতে বাংলা মোটর রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে দলটি।

আওয়ামী লীগের 'পরিশীলিত' নেতাদের নিয়ে নতুন করে দলটি গোছানোর জন্য দেশ ও দেশের বাইরে থেকে প্রচেষ্টা চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের এই অংশটি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আজ থেকে সাত মাস আগে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে।

“কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। বিদেশি শক্তিগুলো অনেক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদনের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নিয়ে এসব দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করছে।”

লিখিত বক্তব্যে নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

"আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আমরা তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম-ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।"


তিনি বলেন, "এনসিপি মনে করে বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ছাড়া আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল।

“এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এ মাফিয়াগোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করবে।”

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি রাজনৈতিক দল কেন নিষিদ্ধ থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, "আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল। নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটেনি।

“দল হিসাবে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রেজিম বাংলাদেশ থেকে উৎখাত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করছে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ বলেন, “ বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার যেকোনো ধরনের আলোচনা ও প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী মতাদর্শ, দল ও মার্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ৩৬ জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

“ফলে দল ও মতাদর্শ হিসাবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের সব সহযোগী ব্যক্তি ও সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।" 

ক্যান্টনমেন্টে কী ঘটেছিল?

এনপিপির সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "গত ৫ অগাস্টের পর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সময় দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু ১১ মার্চের সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আমাদেরকে সেখানে আহ্বান জানান হয়েছিল। অপর প্রান্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।”

সেনা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, তা ফেইসবুকেই স্পষ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, "এটা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বলে আমরা মনে করছি। রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ রাজনীতিবিদদের হাতে থাকা উচিত।

“কিছু দিন আগে সেনাপ্রধানের একটা বক্তব্য আপনার লক্ষ্য করেছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এটাকে অশোভন হিসেবে ধরা হয়েছে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে যেভাবে এড্রেস করা হয়েছে, আওয়ামী লীগসহ ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।”

নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছেন কিনা, এমন প্রশ্নে হাসনাত বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যতক্ষণ ঐক্যবদ্ধ, ততক্ষণ নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি অনুভব করছি না।

“আওয়ামী লীগ যে একটা গণহত্যা চালাইছে, সে এটাই স্বীকার করে নাই। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। সেজন্য আমরা বলছি, আগে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধ স্বীকার করতে হবে, তারপর অন্য কোনো আলোচনা হইলে হইতে পারে। এর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা অসম্ভব, ইম্পসিবল।"

একাত্তর প্রসঙ্গ

এনসিপি ২০২৪ সালের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচার নিয়ে কী ভাবছে- এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, "আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে অনেক বেশি কনসার্ন। কারণ একাত্তরের গণহত্যার বিচার নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন আসছে। সেটা আমাদের পুরাতন প্রজন্মের দায়।

“আমরা একাত্তরের পরে একাত্তরে সংগঠিত গণহত্যার বিচার নিষ্পন্ন করতে পারি নাই। রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারিনি। এরকম পরিস্থিতির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে। এবং এই বিচারটা আমরা নিষ্পন্ন দেখতে চাই। ৭১ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যত গণহত্যা হয়েছে, সব বিচারই আমরা চাই। তবে রাজনৈতিকভাবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ।"

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়।

গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা চেয়ে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তখনকার সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ রিট আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে।

পরে এ বিষয়ে একই বক্তব্য আলাদাভাবে ফেইসবুকে পোস্ট করে তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা আদেশ চেয়ে রিট আবেদন করা হয়নি। তারা দুটো রিট আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের বিগত তিনটি নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণার আর্জি জানিয়ে। সেখানে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার’ কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে সবশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাতের দেওয়া ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ‘দাবি’।

ফেইসবুক পোস্টে হাসনাত অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে সেনা প্রশাসন তাদের ‘চাপ দিচ্ছে’।

তার এ দাবির বিষয়ে অবশ্য সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হাসনাতের পোস্টের পর শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এদিন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ পুরনো দল, এখন সেই দলের যারা অপরাধী, অপরাধের বিচার হলে তারপরে তারা জনগণের কাছে গিয়ে, জনগণ যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয় সেখানে তো আমাদের কিছু বলার নেই।”
হাসনাত ও আসিফের বক্তব্যে রাজনীতিতে উত্তাপ

হাসনাত ও আসিফের বক্তব্যে রাজনীতিতে উত্তাপ


সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এনেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বোমা ফাটিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও। তার দাবি, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হোক, ‘তা চাননি’ সেনাপ্রধান।

তাদের এমন বক্তব্যের মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়; সড়কে সেনাবাহিনীর অবস্থান দেখা গেছে অন্য দিনের তুলনায় বেশি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে ‘ছাত্রলীগ’।


আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান প্রকাশ না করে বিএনপি বলছে, ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ‘জনগণ’।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ ‘মেনে নেবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, “জনগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গণহত্যার বিচারটাই দেখতে চায়। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই।


“আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সংযত, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থেকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাই।”

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দলের নেতা হাসনাতের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে প্রস্তাব বা হস্তক্ষেপের এখতিয়ার সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। এ ধরনের চর্চা যাতে বাংলাদেশে আর না হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের মত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম চালানোর অধিকারের বিষয়টি ‘জনগণের রায়ের’ ওপর ছেড়ে দিতে হবে। আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা ‘ভালো বার্তা বহন করে না’।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানুষের কাছে কোন দল রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে কিনা সেটা মানুষ তার গণতান্ত্রিক মতামতের যে প্রক্রিয়া, সেটি সুষ্ঠুভাবে হলে জানান দিতে পারে, কোন দলকে সে চায়, কোন দলকে চায় না।

“গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করতে হয়। আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে সেটা করাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো বার্তা বহন করে না।”

হাসনাতের বক্তব্যের বিষয়ে জোবাইদা নাসরীন বলেন, “ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে মন্তব্য দেওয়া কঠিন। গতকাল ও আজকের- দুদিনের রাজনৈতিক প্রবাহ অনেক বেশি ভিন্নতা ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট বক্তব্য ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা মিছিল হয়েছে গণমাধ্যমে জেনেছি।”

তবে বিষয়টি নিয়ে সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হঠাৎ কেন আলোচনায় 

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও কমফোর্ট ইরোর সঙ্গে আলোচনায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা না থাকার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

তবে দলটির যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের আদালতে বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন তিনি।

তার ওই বক্তব্যের পর রাতে ফেইসবুক পোস্টে সেনানিবাস থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ‘চাপ দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় তিনিসহ তিনজনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে ‘৪০ বছরের বেশি সময়’ সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ও বচসা হওয়ার কথা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ না করেই তাদের চলে আসতে হয়েছে।

হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়–ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে–তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”

ইউনূসের বক্তব্য এবং হাসনাতের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

শুক্রবারও একই দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

ওই আন্দোলনের মধ্যে ১৪ শ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে। সেসব ঘটনায় হামলার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তার সরকারের মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হচ্ছে।

জুলাইয়ের সেসব নিহতের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

অপরদিকে আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য আওয়ামী লীগকে অনেকে এখন ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন। সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারাও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে।

এরইমধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে গত ১৯ অগাস্ট হাই কোর্টে রিট আবেদন হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে। অবশ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই রিট আবেদন থেকে সরে আসেন হাসনাতরা।

এদিকে, রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে শুক্রবার রাতে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী। মিছিল থেকে তিনজনকে আটকের কথা বলেছে পুলিশ।

কী বলেছেন আসিফ মাহমুদ

হাসনাতের বক্তব্য নিয়ে উত্তাপের মধ্যে এক ভিডিওবার্তায় অভ্যুত্থানের আরেক ছাত্রনেতা, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হন, ‘তা চাননি’ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু ছাত্রনেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত মেনে নেন।

৬ অগাস্ট বঙ্গভবনে ওই বৈঠকের ঘটনাক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেনাপ্রধানের দিক থেকে মূল ভেটোটা (আপত্তি) ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন? হোয়াই নট এনি আদার পারসন (অন্য কেউ কেন নয়)? ড. ইউনূসের নামে মামলা আছে। তিনি একজন কনভিকটেড পারসন (দণ্ডিত ব্যক্তি)। একজন কনভিকটেড পারসন কীভাবে আসলে একটা দেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারে?

“উনি সরাসরি বলেছেন যে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারটাকেতো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে, আওয়ামী লীগতো ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দুচক্ষে দেখতে পারে না, একদম অপছন্দ করে। তো, আওয়ামী লীগ একটা লোককে একেবারে দেখতে পারছে না, বাংলাদেশেতো আলটিমেটলি ৩০-৪০ শতাংশ মানুষতো আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করে। এই ৩০-৪০ শতাংশ মানুষের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে একটা লোককে প্রধান উপদেষ্টা করা উচিত’?”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “সেনাপ্রধান লাস্ট, আমার মনে পড়ে আমাদের বলেছিলেন, ‘আমি বুকে পাথর চাপা দিয়ে এই সিদ্ধান্তটা মেনে নিচ্ছি’।”

কী লিখেছেন হাসনাত

সেনানিবাস থেকে আসা প্রস্তাবের বিষয়ে হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়–ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে–তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”

হাসনাত লিখেছেন, “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

“আমাদেরকে আরো বলা হয়–রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।”

সেনা কর্মকর্তাদের এমন প্রস্তাবের বিরোধিতার কারণে বৈঠকে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বচসা হয় বলে ফেইসবুকে পোস্টে দাবি করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি লিখেছেন, “আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।

“আলোচনার এক পর্যায় বলি–যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর অ্যাটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে না’।

“উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। পরে- মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।”

এরপর শুক্রবার রাতে এনসিপির ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনেও ফেইসবুক পোস্টে লেখা ঘটনার একটি বর্ণনা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

নতুন দলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, "গত ৫ অগাস্টের পর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সময় দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু ১১ মার্চের সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আমাদেরকে সেখানে আহ্বান জানান হয়েছিল। অপর প্রান্তে ঊর্ধ্বতন ও কর্মকর্তারা ছিলেন।

সেনা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে তা ফেইসবুকেই ‘স্পষ্ট করা হয়েছে’ মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, "এটা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বলে আমরা মনে করছি। রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ রাজনীতিবিদদের হাতে থাকা উচিত।”

তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে সেনাপ্রধানের একটা বক্তব্য আপনার লক্ষ্য করেছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এটাকে অশোভন হিসেবে ধরা হয়েছে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে যেভাবে অ্যাড্রেস করা হয়েছে, আওয়ামী লীগসহ ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।”

এই ঘটনার পর নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যতক্ষণ ঐক্যবদ্ধ, ততক্ষণ নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি অনুভব করছি না।

"আওয়ামী লীগ যে একটা গণহত্যা চালাইছে, সে এটাই স্বীকার করে নাই। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা বোধ নেই। সেজন্য আমরা বলছি আগে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধ স্বীকার করতে হবে, তারপর অন্য কোনো আলোচনা হইলে হইতে পারে। এর আগে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা অসম্ভব, ইম্পসিবল," বলেন হাসনাত।

রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের ভাষ্য

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কিনা, তা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে চালানো হত্যাযজ্ঞের বিচারের পরে নির্ধারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “অনেক কথা উঠছে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না। যারা গণহত্যা চালালো তাদের বিচার হবে কিনা? কারা চালিয়েছে এটা কি মানুষ দেখেনি? কোন পুলিশ, কোন ওসি, কোন এসপি, কোন ডিসি এখানে ভূমিকা রেখেছে। কার নির্দেশে কার বলায় এই গণআন্দোলনে রক্ত ঘটানোর জন্য, এই গণআন্দোলন ধ্বংস করার জন্য, দমন করার জন্য কার নির্দেশ, আওয়ামী লীগের কোন নেতাদের নির্দেশ রয়েছে।

“আপনারা (সরকার) এদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে পারলে…আওয়ামী লীগ পুরনো দল, এখন সেই দলের যারা অপরাধী, অপরাধের বিচার হলে তারপরে তারা জনগণের কাছে গিয়ে, জনগণ যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয় সেখানে তো আমাদের কিছু বলার নেই।”

শুক্রবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার, জনগণ ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

“সেখানে সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠানের এই বিষয়ে কোন মন্তব্য বা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। এই ধরনের চর্চা যাতে বাংলাদেশে না হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবেই হবে এবং সামনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আমরা উত্তরণ করতে চাচ্ছি।"

সংবাদ সম্মেলনে এনসপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আজ থেকে সাত মাস আগে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে।

“কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। বিদেশি শক্তিগুলো অনেক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদনের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নিয়ে এসব দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করছে।”

ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে নামা এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

"আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আমরা তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম-ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।"

তিনি বলেন, এনসিপি মনে করে, বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যে কোনো ধরনের তৎপরতা ‘ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল’।

“এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এই মাফিয়াগোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করবে।”

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি রাজনৈতিক দল কেন নিষিদ্ধ থাকবে–সেই প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল। নানা অপরাধের বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার যে কোনো ধরনের আলোচনা ও প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে।”

কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে ‘না থাকার’ কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। এর আগে নিপীড়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে। এর চেয়ে বড় নিপীড়নের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আছে, সেটাও দাবি মধ্যে আছে। আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই।”

দেশে কোনো দল দেশে টিকে থাকবে কি, থাকবে না তা বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মতামতের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেন এ অধ্যাপক।

“আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে সেটা করাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো বার্তা বহন করে না। রাজনৈতিক দলের ভিত্তি থাকে, জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ, কতটা আস্থা বহন করছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যদি জনগণের কাছে আস্থাভাজন না হয়, জনগণ যদি তাদেরকে বাতিল করে দেয়-সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।”

তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দল কতটুকু জনবান্ধব, জনমুখী সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

বেড়েছে তল্লাশি

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার মধ্যে ছাত্রলীগ ছেড়ে আসা সাবেক ছাত্রনেতা হাসনাতের দাবির বিষয়ে সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যেই ঢাকায় সেনা সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাড়তি টহলের পাশাপাশি তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী অবশ্য বলছেন, এই তৎপরতা সেনা সদস্যদের ‘নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।’

“এটি সেনা সদস্যদের পার্ট অব ডিউটি, বাড়তি টহল বা চেকপোস্ট বলে কিছু নেই। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।”

শুক্রবার দিনের বিভিন্ন সময় রামপুরা, শান্তিনগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেসক্লাব, বায়তুল মোকাররম, মহাখালী, বিজয় সরণি, গুলশান, খিলক্ষেত এলাকায় চৌকি বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের।

যৌথ বাহিনীর অভিযানের আওতায় পরিচালিত এসব চৌকিতে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
বিভাজনের পথ বেয়েই আ.লীগ আসবে: তথ্য উপদেষ্টা

বিভাজনের পথ বেয়েই আ.লীগ আসবে: তথ্য উপদেষ্টা


বিভাজনের পথ বেয়েই আওয়ামী লীগ আসবে বলে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যকার বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হোন। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

গুরুতর কয়েকটি বিষয়ে জানতে চেয়ে পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, এস্টাবলিশমেন্ট মাস্টারমাইন্ড বানালো। আবার নিজেরাই মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি’র অন্ধভক্তদের লেলিয়ে দিল। ছাত্রদের মধ্যকার ক্রেডিটবাজির লড়াই কারা শুরু করিয়ে দিল? নেপথ্য শক্তির ন্যারেটিভের পেছনে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট কি করছিল? বামপন্থিদের একাংশকে কারা প্রথমেই অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে আলাদা করে ফেলল? বামপন্থিদের মুজিববাদী অংশ কিভাবে পরিপুষ্ট হলো?

তিনি আরও লিখেন, প্রথম বিতর্ক হলো- সোনার বাংলা নিয়ে। সেখান থেকে কালচারাল ওয়ার শুরু। কখন, কাকে দিয়ে সে খেলা শুরু হলো? হিযবুত গালিটা দেওয়া হলো ছাত্রদের। অথচ ছাত্রদের হিযবুত বলে ন্যারেটিভ বানিয়ে আসল হিযবুতদের পতাকাবাজি করতে হেল্প করেছিল কারা?

এসকেএস টাওয়ারে এস্টাবলিশমেন্টের হাতে এক দশকে গজানো ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারীদের প্রথম মিটিং হলো জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা লিখেন, পরে সারা বাংলাদেশে, জেলায় জেলায়। কারা ইন্ধন জোগাল তাদের। আর কার/কাদের বিরোধিতা করল, এখনও করে যাচ্ছে? ঢাকা শহরের স্কুল কলেজে র‌্যাডিকালাইজেশনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলো কাদের আয়োজনে? নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স) এবং মিম পেজগুলো একের পর এক আক্রমণ করল অভ্যুত্থানের নেতাদের। অভ্যুত্থানের যে নেতারা শাপলা-শাহবাগের বাইনারি ভাঙতে চাইল, নতুন বন্দোবস্ত গড়তে চাইল- তাদের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট, নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স), তৌহিদী জনতা নামধারীদের একসঙ্গে লেলিয়ে দিল কারা? এর বিপরীতে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া কিভাবে ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে বিভাজন শতগুণ বাড়িয়ে দিল?

বামপন্থি-ডানপন্থি বিভাজনের জন্য বিভিন্ন মঞ্চ ও আন্দোলনের পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ল কারা এমন প্রশ্ন করে মাহফুজ আলম লিখেন, সেসব মঞ্চের পেছনে নেপথ্য শক্তি কি করছিল? অর্থ ও জনবলের উৎস কারা ছিল? বামপন্থিদের একাংশ হরেদরে কেন এ সরকারের বিরোধী হয়ে উঠল এবং মুজিববাদীদের ক্রীড়ানকে পরিণত হলো? রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ছাত্রদের নিয়ে টেনশন তৈরি করল কারা? কেন এক্স (সাবেক) কমিশনের এক সদস্য নেপথ্য শক্তির ইন্ধনে সমঝোতা করল? নেপথ্য শক্তিকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া হলো এডমিনে এবং ব্যবসায়ে, প্রকারাস্তরে যা ‘দেশপ্রেমিক’ নেপথ্য শক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে বিভাজন, সন্দেহ ও দূরত্ব তৈরি করল।

ছাত্ররা এবং অন্যান্য দলের কর্মীরা বিভিন্ন অপরাধ করছে না, তা কিন্তু নয় মন্তব্য করে তথ্য উপদেষ্টা লিখেন, জাতীয় শক্তিই বা কেন বারবার এলাইন করতে থাকল এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে? কেন তারা ছাত্র-জনতার আবেগের বিরুদ্ধে যেতে চাইল? আর এ আলাইনমেন্টের সূত্রে জাতীয় শক্তি কেন ছাত্রদের ওপর আক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, ডিসেম্বর অনওয়ার্ড? অলিগার্কদের টাকা কিভাবে ভাগ করা হলো, এস্টাবলিশমেন্ট, ‘বড়’ নেপথ্যশক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে? কিভাবে টিকিয়ে রাখা হলো সামিটসহ অন্যান্য গ্রুপের বিজনেস ইন্টারেস্ট। কিভাবে ছাত্রদের একাংশকে টেনে নেয়া হলো সেসব আর্থিক লেনদেনে। যাতে পরবর্তীতে তাদের ব্লাকমেইল করা যায়? 

তিনি আরও লিখেন, লাকি কেন হঠাৎ সামনে আসল? শাহবাগ-শাপলার দ্বন্দ্ব কেন প্রকট হলো? সব বাহিনীর মোরাল কেন এখনো ভঙ্গুর? মিডিয়াগুলোর ন্যারেটিভ কেন এত এত সাজানো ও সময়োপযোগী হয়? মুজিববাদীরা কিভাবে রিওর্গানাইজড হলো মিডিয়া আর কালচারপাড়ায়?

তদুপরি, কোন কোন এডভাইজারের পক্ষ-বিপক্ষ কখন তৈরি করা হলো? কার কার পদত্যাগ চাওয়া হলো আর কাকে কাকে ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক বানানো হলো? কেনই বা বানানো হলো? উত্তর হিসাবে বিশেষ কারও নাম গুরুত্বপূর্ণ না। আর, সবই অন্যরা করল, আমাদের কোনো দোষ নেই, তাও নয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র হয়েছিল এবং এখনো চলমান! তবু, চলুন বিচার ও সংস্কারের পক্ষে কাজ করি। চলুন, শহিদ আহতদের স্পৃহা ও চৈতন্যের বাংলাদেশ তৈরি করতে আগুয়ান হই। এখনো সময় শেষ হয়নি! সবার জন্য শুধরাবার মতন সময় এখনো আছে! জুলাইয়ের মতো করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও সুযোগ রয়েছে! চলুন, ছাত্ররা এক হোন/হই আবার। আমাদের বিরুদ্ধে, এ প্রজন্মের বিরুদ্ধে, ‘বাচ্চাকাচ্চা’দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এটাই সত্য! আপনারা রুখে দাঁড়ান এবং জবাবদিহি ও সুবিচারের রাষ্ট্র গঠনে আবার ঐক্যবদ্ধ হোন।

একমাত্র ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্যই পারবে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকিয়ে দিতে দাবি করে মাহফুজ আলম লিখেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পুরাতন বন্দোবস্তের সব কলকব্জা বিকল করেই এগোতে হবে। নাহলে কিছুই দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। জুলাই প্রজন্মের একাংশ এস্টাবলিশমেন্টের ফাঁদে পড়েছে, বিভিন্ন সেগমেন্টের ন্যায্য ক্ষোভকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে যাতে এস্টাবলিশমেন্ট অক্ষত থাকে। আর সেটা আছেও বটে! তাই, আমাদের প্রজন্মের সব আবেগকেই আওয়ামী লীগ প্রশ্নে, বিচারের প্রশ্নে, সংস্কারের প্রশ্নে নিবদ্ধ করা এবং এস্টাবলিশমেন্টের পালটা সেটেলমেন্ট গড়ার কাজে লাগানো উচিত। জুলাই প্রজন্ম জিন্দাবাদ! ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্য জিন্দাবাদ। 
গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী পাশে না দাঁড়ালে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হতো: নুর

গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী পাশে না দাঁড়ালে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হতো: নুর


চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী যদি জনগণের পাশে এসে না দাঁড়াত তাহলে দেশে একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতো মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) বলেছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যারা দল গঠন করেছে, তারাও শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট দল হতে চায়।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

গণঅভ্যুত্থানের পরে সেনাবাহিনীকে কেন জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে সাবেক ডাকসু ভিপি বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবী কৌশলে গণঅভ্যুত্থানে সেনা কর্মকর্তাদের অবদান অস্বীকার করে বিভাজন তৈরি করতে চায়। এতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। 

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, ছাত্র সমন্বয়কেরা তদবির করে আওয়ামী লীগের দোসরদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে, আর দোষ চাপাচ্ছে সেনাবাহিনী ও সরকারের ওপর।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফারুক হাসান, হাসান আল-মামুন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, ছাত্র অধিকারের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে একটি গণমিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি পল্টন থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ও জাতীয় প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে আবার গণ অধিকারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। 
আ.লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে: নাহিদ ইসলাম

আ.লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে: নাহিদ ইসলাম


আওয়ামী লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। খুনিদের বিচারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে হবে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিবাদী দল। তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা সরকারের নেই–অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগের সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চলাকালীন সময়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।  এই মাফিয়া গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে ফেরানোর যে কোনো চেষ্টাকে প্রতিহত করতে এনসিপি অঙ্গীকারবদ্ধ।

নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করছে। বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আলোচনা বা প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী মতাদর্শ বা মার্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ৩৬ জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এনসিপি জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে ঘোষিত জুলাই সনদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিদ আলম, সিনিয়র সদস্য সচিব ডা. তাসনিন জারা প্রমুখ। 
রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে সেনাবাহিনী: হাসনাত

রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে সেনাবাহিনী: হাসনাত


বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা রাজনীতিবিদরাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, দল হিসেবে আগে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দোষ স্বীকার করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ নিয়ে অন্য কোন আলোচনা হতে পারে, তার আগে নয়।

একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। খুনিদের বিচারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে হবে।
 
তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলমান থাকবে। আওয়ামী লীগ এখন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিবাদী দল। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিদ আলম, সিনিয়র সদস্য সচিব ডা. তাসনিন জারাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আ.লীগ পুনর্গঠন নিয়ে পিনাকীর বক্তব্য, যা বললেন সোহেল তাজ

আ.লীগ পুনর্গঠন নিয়ে পিনাকীর বক্তব্য, যা বললেন সোহেল তাজ


আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন নিয়ে যখন আলোচনা চারদিকে, ঠিক তখনই এ নিয়ে লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হলে সেখানে সভাপতি করা হবে সাবের হোসেন চৌধুরীকে আর সম্পাদক হবেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। বিষয়টি নজরে এলে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন  তাজপুত্র। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে পিনাকীর সেই স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পিনাকীর বক্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে সোহেল তাজ লিখেছেন- ‘ভুয়া- Fake news!’ 

পরে বিষয়টি নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নোংরা ও পচা রাজনীতিতে আমার আগ্রহ নেই। 

এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয় আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন হলে নেতৃত্ব দেবেন কি না—জবাবে সোহেল তাজ বলেন, আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনো আলোচনা হয়নি। আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানি না।


তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা আর জনগণের নীতি-আদর্শভিত্তিক দল ছিল আওয়ামী লীগ। বাকশালে সেই আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়।

তাজপুত্র বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে হলে একাত্তরের আগের আদর্শে ফিরে যেতে হবে।

নতুন করে নতুন দল নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসবেন কি না জানতে চাইলে এ সময় সোহেল তাজ সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। 

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মই দেশ গড়বে। তারাই হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক। নতুন প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পিওর হার্ট নিয়ে দেশ গড়তে এগিয়ে আসে, তবে তাদের পাশে থাকব।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাবের হোসেন চৌধুরী সভাপতি আর বডি সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক এইভাবে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হবে। এই পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে। এইটাই বিএনপি, ভারত ও ওয়াকারের যৌথ সিদ্ধান্ত। এতে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের সমর্থন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই সাবের হোসেন চৌধুরীকে জেলে রাখা যায় নাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিপ্লবীদের দেশ ছাড়তে হয়েছিল। তারা বিভক্ত হতে হতে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। যারা ১৯৭৫ এর বেনিফিসিয়ারি তারা বিপ্লবীদের বাঁচায় নাই। একাংশ রাজনৈতিক দল তৈরি করলো ফ্রিডম পার্টি। আরেক অংশ খন্দকার মুশতাককে মাঝে রেখে দল গড়তে চাইলো। পারলো না। মুশতাককে প্লেট চুরির মামলায় জেলে দেওয়া হলো। হাসিনা ফিরে এলো।’

এই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, ‘২০২৪ সালে আবার ১৯৭৫ এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সেই একই ব্যবস্থা সেই একই কাঠামো অবিকৃত রেখে রাষ্ট্র চলবে। লুটপাট চলবে, ভারতের কর্তৃত্ব চলবে। ২৪-এর নায়কেরা ভুল আর বিভেদের পঙ্কিল আবর্তে ডুবে যাবে। এখন শুরু হয়েছে একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে লড়িয়ে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের ক্ষমতা এখন সীমিত। ব্যাপকভাবে চলছে ছাত্রদের চরিত্রহনন। ছাত্রদের উপলব্ধি হওয়া দরকার ছিল তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ লিখে ফেলেছিল ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে। তারা যাদের ওপরে নির্ভর করেছিল। যাদের মিষ্টি কথায় ভুলেছিল, তারাই এখন চোখ উলটে দিয়েছে। আরও একবার আরেক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।’

এই ব্লগার আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি হাল ছাড়ি না। যতদিন বেঁচে আছি, বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেব না। ১৯৭৫-এর পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ফিরবে না; যতই তার পেছনে ওয়াকার থাকুক, সিভিল মিলিটারি বুরোক্রেসি থাকুক, প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার থাকুক আর বিএনপি থাকুক।’ 

সবশেষে পিনাকী বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

Sunday, 8 January 2023

আন্দোলনে বাধা দেব না, নাশকতা করলে উপযুক্ত শিক্ষা দেব: প্রধানমন্ত্রী

আন্দোলনে বাধা দেব না, নাশকতা করলে উপযুক্ত শিক্ষা দেব: প্রধানমন্ত্রী




প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কাউকে দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। তারা আন্দোলন করতে চাইলে আমরা বাধা দেব না। কিন্তু আন্দোলনের নামে আবারও নাশকতা করলে, দেশের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের উপযুক্ত জবাব বাংলাদেশের জনগণ দেবে। আগামী দিনে একটা মানুষকেও তারা ক্ষতিগ্রস্ত করলে যে হাত দিয়ে আগুন দেবে, ওই আগুনে সেই হাত পুড়িয়ে দেওয়া হবে। যে হাতে মানুষ খুন করবে, তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়া হবে। এ কথাটা যেন সবার মনে থাকে। 

শনিবার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম যৌথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

সভার কার্যক্রম শুরুর আগে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর আগে তিনি গোপালগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নে ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে দেশ চলবে। এ মাটিতে বসে প্রতিজ্ঞা করছি, বাংলাদেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি কেউ যাতে গতিরোধ করতে না পারে, সেজন্য আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ থাকতে হবে, দৃঢ় থাকতে হবে। যে কোনো অপকর্ম প্রতিরোধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল। তাদের ঘৃণা জানাতে হবে। তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। হত্যা, খুন ও গুম জিয়াউর রহমান শুরু করেছিল। খালেদা জিয়া ও তার কুলাঙ্গার পুত্র মিলে ২১ আগস্ট থেকে শুরু করে অনেক মানুষ হত্যা করেছে এবং অত্যাচার নির্যাতন করেছে। 

দলকে সুসংগঠিত ও তৃণমূলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে যাতে অতীতের মতো আগুনসন্ত্রাস ও নাশকতা করে কেউ যেন দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যা যা করা দরকার, আওয়ামী লীগ সব করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা সর্বদা জনগণের পাশে আছি এবং জনগণের সেবা করাই আমাদের মূলমন্ত্র। শুধু আওয়ামী লীগ সরকার নয়, এর নেতাকর্মীরাও জনগণের প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাস এবং যে কোনো দুর্যোগে জনগণের পাশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের দাঁড়ানো প্রমাণিত হয়- আওয়ামী লীগ সর্বদা জনগণের প্রতিটি দুঃখ-কষ্টে পাশে থাকে। 

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে নবগঠিত কমিটির সব সদস্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের (আওয়ামী লীগের) নীতি হলো জনগণের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়ানো। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশবাসীকে একটি সুন্দর জীবন দিতে চেয়েছিলেন এবং আমরা সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। 

তিনি জানান, তার সময়ে দেশের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। এসব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীও স্মার্ট হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যে নতুন কমিটি হয়েছে, আমাদের কমিটির সদস্য প্রত্যেকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বাংলার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আমাদের যা যা করণীয়, তা আমরা করে যাব; তাদের পাশে আমরা চিরদিন থাকব; চিরদিন আছি এবং মানুষের সেবা করাটাই আমাদের সব থেকে বড় লক্ষ্য। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের যে মর্যাদা পেয়েছে, তা ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়াই তার সরকারের লক্ষ্য উলে­খ করে শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে কী কী করণীয়, সে বিষয়েও সরকার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। 

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আরও ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে। আজ উন্নত দেশও হিমসিম খাচ্ছে এবং নিজেদের তারা অর্থনৈতিক মন্দার দেশ হিসাবে ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ এখনো সে পর্যায়ে যায়নি এবং তার সরকার এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির কলেবর বৃদ্ধি করেছে। অতি উচ্চমূল্যে বিদেশ থেকে ক্রয় করতে হলেও ভর্তুকি প্রদান করে নিত্যপণ্য মানুষের মাঝে সরবরাহ করছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫ টাকায় চাল ক্রয়, মধ্যবিত্তের জন্য টিসিবির বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে চাল ক্রয়ের সুবিধা, ভিজিডি-ভিজিএফ-এর মাধ্যমে একেবারে হতদরিদ্রদের খাদ্য সাহায্য প্রদান, বয়স্কভাতা, বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা ও প্রতিবন্ধি ভাতাসহ নানা ধরনের ভাতা বর্ধিত হারে প্রদান করছে, যাতে মানুষের কোনো কষ্ট না হয়। 

এ সময় দেশের সব অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোয় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক দেশে আজ খাদ্যের জন্য হাহাকার। কিন্তু আমরা এ মাটিকে যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে অন্যকেও সাহায্য করতে পারব।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষকে স্বাধীনতা যেমন এনে দিয়েছে, তেমনই আর্থসামাজিক উন্নতিও এনে দিয়েছে। মাত্র ১৪ বছরে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে একটা মর্যাদা পেয়েছে। এ জাতিকে একটি আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি হিসাবে আমরা গড়ে তুলতে চাচ্ছি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেই সঙ্গে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নিয়েছি। সারা দেশে আমরা যেমন হাইটেক পার্ক করছি, স্কুলগুলোয় কম্পিউটার ল্যাব করছি, প্রযুক্তি শিক্ষা এবং বহুমুখী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, সেজন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জমানতে ঋণ দেওয়া, বর্গাচাষিদের বিনা জমানতে ঋণ দেওয়া হচ্ছে, কৃষকদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে ভতুর্কির টাকা সরাসরি পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ কোটি কৃষককে কৃষি উপকরণ ক্রয় করার জন্য কার্ড দেওয়া হয়েছে, ২ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি-উপবৃত্তি দিয়ে সহযোগিতা করছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, শীতে কম্বল ও গরম কাপড় বিতরণ করার মাধ্যমে তার সরকারের যতটুকু সাধ্য, তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং বিত্তবানদেরও জনগণের দুঃখ-কষ্টে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা খুবই কর্মব্যস্ত দিন কাটান। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে আওয়ামী লীগের ২২তম কাউন্সিলে নবনির্বাচিত জাতীয় পরিষদ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সমাধিসৌধ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির অগ্রগতি কামনা করে পবিত্র ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন। 

Saturday, 26 February 2022

নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে যা বললেন ফখরুল

নতুন নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে যা বললেন ফখরুল


নতুন গঠিত নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির আগ্রহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন গঠনের পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, আমরা আগেও বলেছি এখনও পরিষ্কার করে বলছি, শুধু নির্বাচন কমিশন নয় আওয়ামী লীগ যা কিছু করবে সব তাদের নিজেদের লোকদের দিয়ে করবে। সুতরাং, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা আমাদের কাছে অর্থবহ নয়, তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল এবং চারজনের কমিশনের নাম দিয়ে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

কমিশনার হলেন- জেলা ও দায়রা জজ (অবসরপ্রাপ্ত) বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আহসান হাবীব খান, সিনিয়র সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আলমগীর, সিনিয়র সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে ১০ জনের নাম সুপারিশের জন্য গত ৫ ফেব্রুয়ারি ৬ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে এর প্রধান করা হয়।

যোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাছাই করতে গত ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনটি বৈঠক করে সার্চ কমিটি। এর আগে সার্চ কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে সবার কাছে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ্য ব্যক্তিদের নাম চাওয়া হয়।

সার্চ কমিটির কাছে মোট ৩২২ জনের নাম জমা পড়ে। এরপর তারা কয়েকটি বৈঠক করে ওই ৩২২ জন থেকে ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ১০ জনের এ তালিকা জমা দেন সার্চ কমিটির সদস্যরা। 

Monday, 25 October 2021

গোলাপগঞ্জ-সহ সিলেটের ৬ উপজেলা ও ১ পৌরসভার জাপা কমিটি বিলুপ্ত

গোলাপগঞ্জ-সহ সিলেটের ৬ উপজেলা ও ১ পৌরসভার জাপা কমিটি বিলুপ্ত



গোলাপগঞ্জ-সহ সিলেটের ৬ উপজেলা ও ১টি পৌরসভায় জাতীয় পার্টির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক কুনু মিয়া ও সদস্য সচিব উছমান আলী চেয়ারম্যান। 

বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটিগুলো হল, গোলাপগঞ্জ উপজেলা, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা, বিশ্বনাথ উপজেলা, ওসমানীনগর, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কমিটি। 

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার ( ২৩ অক্টোবর ) থেকে এসব উপজেলা ও একটি পৌর কমিটির সকল কার্যক্রম বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। 

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের জন্য স্ব স্ব উপজেলা নেতৃবৃন্দকে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

Saturday, 11 September 2021

দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

দ্বাদশ নির্বাচন ঘিরে দলীয় নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা




দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও দলীর নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ৩টি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।


প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, লিডারশিপ তৈরি, দল ও সরকার নিয়ে মিথ্যা প্রচারের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেয়া এবং সরকারে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের কাছে বেশি করে তুলে ধরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা এক নেতা গণমাধ্যমকে জানান, এই তিন বিষয়ে আওয়ামী লীগ পিছিয়ে রয়েছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।

সূত্র জানায়, আজকের সভায় প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনার প্রকোপ যেহেতু কমেছে আমি (শেখ হাসিনা) চাই আপনারা কাজ শুরু করেন। আমরা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। অতীতে যারা বিদ্রোহ প্রকাশ করে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে তাদের মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছি।


সভা সূত্রে আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিভিন্ন এলাকায় সম্মেলনে গিয়ে এমন লোকের হাতে নেতৃত্ব দেবেন যারা দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, দলের জন্য কাজ করে এবং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

নেত্রী আবারও বলেছেন আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে। নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক পলিসি কী হবে সেটা নিয়েও কাজ শুরু করতে বলেছেন বলে জানান মনোনয়ন বোর্ডের এক সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

Tuesday, 17 August 2021

ফখরুল সাহেব, শিষ্টাচার আমাদের শেখাতে আসবেন না: ওবায়দুল কাদের

ফখরুল সাহেব, শিষ্টাচার আমাদের শেখাতে আসবেন না: ওবায়দুল কাদের



খালেদা জিয়াকে নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দিয়েছেন-বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।  তিনি বলেছেন, শিষ্টাচার আমাদের শেখাতে আসবেন না।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিরিজ বোমা হামলা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ওবায়দুল  কাদের এসব কথা বলেন।  ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 


আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন আমাদের নাকি রাজনীতির শিষ্টাচার ও সৌজন্যতাবোধ নেই।  কারণ আমি বলেছি- বেগম জিয়ার জন্মদিন ছয়টি।  তার কাছে জানতে চাই- একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছয়টি জন্মদিবস কেন? আগে ছিল পাঁচটা।  সর্বশেষ করোনা পরীক্ষার সময় দেখলাম আরেকটা।  ফখরুল সাহেব, এখানে শিষ্টাচার ও সৌজন্যতার বিরুদ্ধে কী করলাম? সত্য তুলে ধরলাম।  এসব জন্মদিবস আপনাদেরই সৃষ্টি।  আওয়ামী লীগের সাজানো কিংবা বানানো কিছু নয়।  করোনা পরীক্ষার সময় জন্মদিবসটা কে লিখেছিল তার উত্তর জানতে চান কাদের। 


এ সময় খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিবস জনগণকে জানানোর আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।  বলেন, এবারও (শোক দিবসে) জন্মদিবস পালন করেছেন।  প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার মানসিকতা এখনও এখান থেকে সরে যায়নি।  কেক কাটেন নাই, কিন্তু ফুলতো দিয়েছেন।  মিলাদ মাহফিল করেছেন।  মানে হলো ১৫ আগস্ট জন্মদিবস।  আপনারা এটাকেই করবেন। শিষ্টাচার আমাদের শেখাতে আসবেন না।

Saturday, 7 August 2021

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে অব্যাহতি

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে অব্যাহতি



নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেনের সমালোচনা করায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে আওয়ামী যুবলীগ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার সুমন কেন্দ্রীয় যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি শনিবার (৭ আগস্ট) রাতে সিলেটভিউ-কে কেন্দ্রীয় যুবদলীগের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২০২০ সালের নভেম্বরে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আলোচিত আইনজীবী ও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।


পদ পাওয়ার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সমালোচিত হয়ে পদ হারালেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী।

উল্লেখ্য, সামাজিক নানা সমস্যা নিয়ে ফেসবুক লাইভ করে আলোচিত ব্যারিস্টার সুমন। ফেসবুকে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে সরব থাকেন তিনি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেনের তীব্র সমালোচনা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে তিনি এ অনুরোধ জানান।

লাইভে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘শেখ কামাল সাহেবের জন্মদিনে শরীয়তপুরের পালং থানার ওসি আক্তার হোসেনের আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান দেয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই জিনিসটা দেখার পর আমার কাছে মনে হয়েছে দু-একটা কথা বলা দরকার। আওয়ামী লীগের স্লোগান দেয়ার মানুষ কী এতই কম যে একজন ওসি সাহেবের এই স্লোগান দিতে হবে। আমি খেয়াল করে দেখলাম যে উনি বলছেন আবেগ থেকেই স্লোগান দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথা হচ্ছে, আপনি যখন সরকারি দায়িত্বে থাকবেন কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আবেগ দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে পানিশমেন্ট নিয়ে আসা উচিত। কিন্তু তিনি এখনো ওই জায়গাতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আছেন।’

আইনজীবী সুমন বলেন, ‘আবেগ দেখানো ভালো। কিন্তু আপনি যখন আবেগ দেখাতে গিয়ে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে দিলেন, তখন সরকারের কিন্তু অনেক ক্ষতি করে দিলেন। অনেক ওসি এবং পুলিশ কর্মকর্তারা দলমতের ঊর্ধ্বে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন। এই ওসির কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের অবস্থাটা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?’

সবাইকে সতর্ক করে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আপনারা জানেন যে সামান্য চাকরিজীবী লীগের কারণে সরকার কতো কঠোর। হেলেনা জাহাঙ্গীরকে সরকার আটক করেছে এমন ভুঁইফোঁড় চাকরিজীবী লীগ সংগঠন করায়। এখন এমন অবস্থা হইছে এ ধরনের ওসি সাহেবরা দুদিন পরে বলবেন একটি পুলিশ লীগ করা যায় কি-না।’

তিনি বলেন, ‘সতর্ক হওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় এখন। পঁচাত্তর সালে আমরা সতর্ক হতে পারিনি বলেই বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। আপনি যদি দলকে সত্যি ভালোবাসেন, তাহলে দলের প্রতি এমন কোনো আবেগ দেখাতে পারবেন না, এমন কোনো কাজ করতে পারবেন না, যে কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আপনি যদি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হয়ে কাজ করবেন, তখন এমন কোনো আবেগ দেখাতে পারবেন না, এমন কোনো কাজ করতে পারবেন না, যে কারণে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে বিব্রত করেছেন।’

ব্যারিস্টার সুমন আরও বলেন, ‘আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপির কাছে অনুরোধ করব রাষ্ট্র-দল সবগুলাকে একাকার করার জন্য এবং বিশেষত এই সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্য, বিব্রত করার জন্য, পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে বিব্রত করার জন্য তার (ওসির) বিরুদ্ধে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অ্যাকশন নিতে হবে। 

Tuesday, 1 June 2021

চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যে আটকে আছে বিএনপির রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী

চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যে আটকে আছে বিএনপির রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী



বিএনপির রাজনীতি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের মধ্যেই আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার (০১ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ৫২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।


দেশের উন্নয়ন অনেকে দেখেও দেখে না বুঝেও বুঝে না এ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনীতিটা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের মধ্যে আটকে আছে। আর তারা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়েই চিন্তিত এবং তাদের পুরো রাজনীতিটা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে অবতিত হচ্ছে। দেশের মানুষের অবস্থা নিয়ে তারা কোনোভাবে চিন্তিত বলে মনে হয় না।  


এর আগে রোববার (৩০ মে) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জ্বর নিয়ন্ত্রণে এসেছে, দু-একদিনের মধ্যেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাবেন বলে জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

এ সময় সরকার খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল।

গত ১৪ এপ্রিল করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের পরামর্শে ২৭ এপ্রিল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তাকে সিসিইউতে নেওয়া হয়।

তিন দফা পরীক্ষার পর করোনা নেগেটিভ হন খালেদা জিয়া। পোস্ট কোভিড জটিলতায় ভোগায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।