সর্বশেষ
Wednesday, 19 August 2026
গোলাপগঞ্জে সিনিয়র সাংবাদিককে হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগে থানায় জিডি
গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সিনিয়র এক সাংবাদিককে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালাগাল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ সাধারণ ডায়েরি করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, দৈনিক সকালের দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক নয়া দিগন্তের গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতায় যুক্ত সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন গত ১৬ আগস্ট রাতে তথ্য সংগ্রহের জন্য গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। পরে সেখান থেকে বের হয়ে সহযোগী মাহদি রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ফেরার পথে খালেদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘তালাশ টিভি’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাংবাদিক সপনের সঙ্গে অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হেনস্তা করা হয়। একই সঙ্গে তার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তি সাংবাদিক সপন ও তার সহযোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তাদের মধ্যে শারীরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তারা ঘটনার বিভিন্ন অংশ প্রত্যক্ষ করেন।
সাংবাদিক সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপনের অভিযোগ, এ ধরনের আচরণের কারণে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন এবং তথ্য সংগ্রহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার সঙ্গে থাকা কেউ তার ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি কিংবা সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারেন বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিজের ও সহযোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ছবেদ আলীর যোগাযোগ করা হলে তিনি জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের করা হবে।
Tuesday, 18 August 2026
গোলাপগঞ্জে স্মৃতিময় বিদায়, ভালোবাসায় সিক্ত রোমান আহমদ নোশাদ
শেষ দিনে তাকে বিদায় জানাতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত হন। বিদায়ী শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের মধ্য দিয়ে সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিকতার প্রকাশ ঘটান।
এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইমাম, রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ, জুলাই যোদ্ধা, সাত শহীদ পরিবারের সদস্য, স্থানীয় সাংবাদিক, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী, ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা এবং উপজেলা পর্যায়ের কর্মচারীরা তাকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান।
বিদায়ী বক্তব্যে রোমান আহমদ নোশাদ গোলাপগঞ্জে কর্মজীবনের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এখানে দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজেলা প্রশাসনের সহকর্মীদের কাছ থেকে তিনি আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন। একইভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছ থেকেও দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “কর্মস্থল পরিবর্তন হলেও গোলাপগঞ্জের মানুষের ভালোবাসা ও এখানকার স্মৃতিগুলো সবসময় মনে থাকবে। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। নতুন কর্মস্থলেও যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই।”
তার বিদায়কে ঘিরে শেষ কর্মদিবসে উপজেলা প্রশাসনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার নতুন কর্মস্থলের জন্য শুভকামনা জানান এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করেন।
Friday, 14 August 2026
গোলাপগঞ্জবাসীর হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন রুমান আহমেদ নোশাদ
গোলাপগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেন নোশাদ। আন্তরিক স্বভাব, সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ এবং সহযোগিতাপ্রবণ মানসিকতার কারণে সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রিয়ভাজন হিসেবে।
সেবা গ্রহীতা অনেকেই জানান, যেকোনো প্রয়োজনে রোমান আহমেদ নোশাদ-এর কাছে গেলে তিনি মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি শুনতেন এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকার মানসিকতাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতাও প্রশংসিত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও সবাইকে আপন করে নেওয়ার আচরণেই সকলের সঙ্গে তৈরি হয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। ফলে বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সহকর্মী, পরিচিতজন ও উপজেলাবাসীর মধ্যেই তৈরি হয়েছে আবেগ ও বিষণ্নতা।
গোলাপগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে পাওয়া মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতার কথা স্মরণ করে নোশাদ বলেন, “গোলাপগঞ্জে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতা পেয়েছি, তা সবসময় মনে থাকবে। আমার অবস্থান থেকে মানুষকে সহযোগিতা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নতুন কর্মস্থলেও যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য সবার দোয়া চাই।”
কর্মস্থল বদলে গেলেও গোলাপগঞ্জের মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে স্মরণীয় বলে মনে করেন তিনি।
তাঁর নতুন কর্মস্থলের পথচলা সফল ও সুন্দর হোক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তাঁর সহকর্মী, পরিচিতজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
আগামী মঙ্গলবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগদানের মধ্য দিয়ে নোশাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সূচনা হবে। নতুন দায়িত্বে তাঁর সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করেছেন গোলাপগঞ্জবাসী।
Sunday, 9 August 2026
গোলাপগঞ্জে চৌঘরী যুব সংগঠনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগঃ ভাঙা সড়কে স্বস্তির প্রলেপ
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে গোলাপগঞ্জের চৌঘরী এলাকার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মেরামত কাজ শুরু করেন সংগঠনের সদস্যরা। হাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন তারা। স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ সময় ধরে চলে সড়ক সংস্কারের এ কার্যক্রম।
স্থানীয়দের কাছে যে সড়ক ছিল প্রতিদিনের চলাচলের দুর্ভোগের কারণ, সেই সড়কেই নিজেদের শ্রম দিয়ে স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন তরুণরা। তাদের এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যেও দেখা দিয়েছে আনন্দ ও প্রশংসা।
সড়ক সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মো. বদরুল আলম, রাণাপিং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি সুলতান মাহমুদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন, সমাজসেবক সোনা মিয়া, মতিউর রহমান, জয়নাল আহমদ ও বশির আহমদ।
এ সময় চৌঘরী যুব সংগঠনের সভাপতি জুনেদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক মাহিদ আহমদের নেতৃত্বে সংগঠনের সদস্য রুমেল, জয়নুল, রাহেদ হুসাইন, নয়ন, সাইম, মাসুদ, রনি, মুজাহিদ, রায়হান, আব্দুল আহাদ, রুজেল, মুরশেদ, জামিল, শাহরিয়া, শরিফ ও সারওয়ারসহ অন্যান্য সদস্যরা সংস্কারকাজে অংশ নেন।
এ ছাড়া চৌঘরী যুব সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরাও এ জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করেন।
মানুষের জন্য তরুণদের এই পথচলাঃ
চৌঘরী যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা নয়, এলাকার মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
মানুষের চলাচলের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই নিজেদের উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে এমন সামাজিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অনেক সময় ছোট একটি গর্তও মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই দুর্ভোগকে নিজেদের সমস্যা মনে করে তরুণরা যেভাবে রাস্তায় নেমে কাজ করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এ উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
তরুণদের হাতের শ্রমে যখন ভাঙা সড়কে ফিরে আসে চলাচলের স্বস্তি, তখন সেটি শুধু একটি রাস্তা মেরামত নয় এ যেন মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধেরই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
