Previous
Next

সর্বশেষ

সারাদেশ

সিলেট

আন্তর্জাতিক

বিজ্ঞপ্তি

Saturday, 31 October 2026

গোলাপগঞ্জে রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা

গোলাপগঞ্জে রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় ব্যবসায়ীর ওপর হামলা


গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়কের বেহাল দশা ও জনদুর্ভোগ নিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভিতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর জাকির হোসাইন নামে এক ব্যবসায়ীর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ীর মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের কুড়া নদীর সংযোগ সড়কসংলগ্ন উত্তর আলমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুড়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করা হলেও এখনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

শনিবার সকালে এসব দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরতে আরটিভির একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জাকির হোসাইন সড়কের দুরবস্থা নিয়ে সাক্ষাৎকার দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাক্ষাৎকার দেওয়ার পরপরই কয়েকজন ব্যক্তি দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তাকে গালিগালাজ করে হামলা চালায়।

স্থানীয় শিক্ষক লুৎফুর রহমান হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজন ধারালো দা দিয়ে জাকিরের মাথার সামনের অংশে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপরও হামলাকারীরা তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে স্থানীয় শিক্ষক লুৎফুর রহমানসহ অন্যরা তাকে উদ্ধার করে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জাকির হোসাইন গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছবেদ আলী বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Friday, 30 October 2026

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আতাউর রহমান কাওছার

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন আতাউর রহমান কাওছার

ওসমানীনগর(সিলেট) প্রতিনিধি: সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড–২০২৬’ পেয়েছেন সাংবাদিক ও শিক্ষক আতাউর রহমান কাওছার। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

আতাউর রহমান কাওছার ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সদস্য। তিনি দৈনিক খোলাকাগজের প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও প্রিন্ট পত্রিকায় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করছেন।

ইতিহাসবিদ ড. মুমিনুল হক একাডেমি, সিলেটের উদ্যোগে প্রতিবছর সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও মানবকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের গুণীজনদের এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এবছরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৪০ জন গুণী ব্যক্তিকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক আবু সালেহ আহমদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফুল করিম। প্রধান আলোচক ছিলেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাসুদুল হাসান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও গল্পকার সেলিম আওয়াল। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা এবং সমাজের নানা সমস্যা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সম্মাননা সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড–২০২৬’ অর্জন করায় আতাউর রহমান কাওছারকে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনেরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক এনামকে সংবর্ধনা প্রদান

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক এনামকে সংবর্ধনা প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক এনামকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে রায়গড় গ্রামে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

এসময় প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল হান্নান এর সভাপতিত্বে ও সমাজকর্মী জিহান আহমদ এর সঞ্চালনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন নব নির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক এনাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকর্মী শেখ কামরুজ্জামান, শাহ আলম খান, একতা সমবায় সমিতির সভাপতি ছাদিকুর রহমান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রবীণ ব্যক্তি মুজাহিদুল আহাদ, আব্দুল হোসেন, আব্দুল মতিন, সাংবাদিক সাকিব আল মামুন, পারভেজ আহমদ, ইমাম আহমদ, মারজান আহমদ, মারুফ আহমদ, মেহেদি আল আজাদ, আইমান আহমদ, ফারদিন আহমদ, ফারহান আহমদ, খায়রুল ইসলাম, মাহফুজ আহমদ, সাদমান আহমদ, সাফওয়াত আহমদ প্রমুখ।

গোলাপগঞ্জে তরুণ সমাজকর্মী শুক্কুর আহমদ মামুনের ইন্তেকাল

গোলাপগঞ্জে তরুণ সমাজকর্মী শুক্কুর আহমদ মামুনের ইন্তেকাল



নিজস্ব প্রতিবেদক, গোলাপগঞ্জ: গোলাপগঞ্জের কালিডহর গ্রামের উদীয়মান তরুণ সমাজকর্মী ও রাজনৈতিক সংগঠক শুক্কুর আহমদ মামুন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো প্রায় ২৮বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

​শুক্কুর আহমদ মামুন তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বুধবারীবাজার ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্পৃক্ততা তাকে সর্বমহলে পরিচিত করে তুলেছিল।

​তার এই অকাল প্রয়াণে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

​শোক প্রকাশকারী নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা মহান আল্লাহর দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার মতো ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য দোয়া করেন।

Thursday, 29 October 2026

সিলেটে রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

সিলেটে রায়হান হত্যা মামলায় এসআই আকবরের মৃত্যুদণ্ড, দুজনের যাবজ্জীবন

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলায় পুলিশের বহিষ্কৃত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূইয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় দুই কনস্টেবলকে যাবজ্জীবন এবং তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে কনস্টেবল হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একজনকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বহিষ্কৃত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এসআই হাসান উদ্দিন ও সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে কেবল আশেক এলাহী কারাগারে আছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি সবাই পলাতক।

আদালতের সরকারি কৌসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ প্রাথমিকভাবে এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে রায় আরও পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।

রায় ঘোষণার আগে দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। তার আগেই আদালতে হাজির হন রায়হানের মা সালমা বেগম। আসামিরা জামিন পেয়ে পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আসামিরা শাস্তি না পেলে তার ছয় বছরের অপেক্ষা ও কষ্ট বিফলে যাবে।

মামলার পটভূমি:

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে মামলা করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পায়।

ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূইয়াসহ চারজনকে ওই বছরের ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়। গত বছরের ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে ১১ আগস্ট তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান এবং তখন থেকেই পলাতক রয়েছেন।

২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাতে ফাড়ির ইনচার্জ আকবর হোসেন ভূইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্তরা হলেন এএসআই আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাড়ির দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই হাসান উদ্দিন (৩২) এবং আকবরের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

সিলেটে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

সিলেটে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা, প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় আহত হয়েছেন দুই সাংবাদিক। তাদের মাথায় স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে আঘাত করা হয়। 

আহতরা হলেন সিলেট ভিউ টোয়েন্টিফোরডটকমের প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার ও শ্যামল সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক রেজা রুবেল। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই লেগেছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনার প্রতিবাদে সিলেট নগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সাংবাদিকরা। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সাংবাদিক নেতারা জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।অ ন্যদিকে, হামলার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নোবেল বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ইমজা) সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমান বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগীর স্বজনদের ওপর হামলারও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা বৈঠক করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।

বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিদ হোসেন বলেন, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কঠোর কর্মসূচি দেবে।

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়েও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

 

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ছবেদ আলীর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে ওসির আমন্ত্রণে থানা প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ওসি ছবেদ আলী বলেন, গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচন অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এমন নির্বাচন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তিনি মনে করেন, এ নির্বাচন গোলাপগঞ্জের সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি বিরল ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

ওসি আরও বলেন, গোলাপগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলাকার অপরাধ, মাদক, সামাজিক সমস্যা কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় সাংবাদিকদের নজরে এলে তা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার ওপরও জোর দেন ওসি।

সভায় নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ওসি ছবেদ আলীকে ধন্যবাদ জানান প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সাংবাদিক ও প্রশাসনের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা সহজ হয়। গোলাপগঞ্জের মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সবাই।

সভায় উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান খান, সহ-সভাপতি মো. বদরুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বাবর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হুমায়ুন, দপ্তর সম্পাদক অলিউর রহমান তামিম, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাকেল উদ্দিন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সামিল হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য বাবর জোয়ারদার, মাহদি রহমান, আব্দুল জলিল ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন মিত্র।